Skip to main content
 

আইনজীবী হতে চাই

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ প্রাপ্তি আপনাকে একজন আইনজীবী হিসেবে মর্যাদা দিবে। বার কাউন্সিলের সনদ পেতে প্রথমে আপনাকে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন করতে হবে। এরপর আপনাকে এলএলবি কোর্স করতে হবে। অথবা আইনে অনার্স কোর্স করতে পারেন। যারা আইনজীবী হতে চায় তদের পাস করার পর বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ গ্রহণ করতে হবে। কমপক্ষে ৬ মাস কোনো সিনিয়র আইনজীবীর সাথে প্র্যাকটিস করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সিনিয়র আইনজীবী যে সকল মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তিতে অংশগ্রহণ করবে সেই মামলাগুলোর উপর ভিত্তিকরে নতুনদের কাছে প্রশ্ন করা হয়। মৌখিক ও লিখিত ২ ধরনের পরীক্ষায়ই তাকে অংশগ্রহণ করতে হয়। উত্তীর্নদের বার কাউন্সিল থেকে সনদ প্রদান করা হয়। ‘আইন নিয়ে পড়লেই যে সবাই আইনজীবী বা উকিল হবে বিষয়টা তা নয়। বিভিন্ন কোম্পানির লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ও ব্যাংকিং সেক্টরে আইনে পাস করা শিক্ষার্থীদের বেশ কদর রয়েছে। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার আইন উপদেষ্টা হিসেবে চাকরি করতে পারেন। আইন কমিশনেও চাকরির সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক, বীমা ছাড়াও ছোট-বড় প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে লিগ্যাল অ্যাডভাইজার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থায় কাজের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিচারক ও আইনজীবী হিসেবে কাজেরও সুযোগ রয়েছে।’ উকিল হলেই তাকে আমরা আইনজীবী বলি, মূলত কেউ যদি আইন সম্পর্কিত কোনো পেশায় নিয়োজিত থাকে তবেই সে আইনজীবী পরিচয় দিতে পারবে।’

 

এই বিষয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই নির্দিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে দেখা হয় না। এখানে পূর্বের কোনো অভিজ্ঞতাই কাজে লাগে না। সিনিয়রের সাথে প্র্যাকটিস করে কি শিখলো তার উপরে ভিত্তিকরেই পরীক্ষা হয়। অতএব আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অনেকেই এই বিষয়ের ডিগ্রির জন্য বিদেশে যায়, এই বিষয়ের বিদেশি ডিগ্রি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ‘বার অ্যাট ল’ ডিগ্রিধারী অনেক। তবে বাংলাদেশের এলএলবি ও ‘বার অ্যাট ল’ এর মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। ইংল্যান্ডের এই ডিগ্রি অর্জনের জন্য আপনাকে ইংল্যান্ডের আইনের ওপর পড়াশুনা করতে হবে। এ জন্য ইংল্যান্ডে ৯ মাসের একটি বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স করতে হবে। এই কোর্সের সফল সমাপ্তি শেষে পাওয়া যায় ইংল্যান্ড বার কাউন্সিলের স্বীকৃতি ও সনদ। বাংলাদেশের আইনজীবীদের বলা হয় অ্যাডভোকেট। তেমনি করে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার আইনজীবীদের বলা হয় ব্যারিস্টার। কেউ যদি ব্যারিস্টারি ডিগ্রি অর্জন করে বাংলাদেশে আইন পেশায় নিয়োজিত হতে চায় সেক্ষেত্রে তাকে আবার বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় পাস করে সনদ নিতে হবে। কারণ এর আগে যদি কেউ ব্যারিস্টারি ডিগ্রি অর্জন করত, সে সরাসরি বাংলাদেশে আইন পেশায় নিয়োজিত হতে পারত। তাকে আর বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় পাস করে সনদ নেওয়ার প্রয়োজন হতো না। কিন্তু এখন সেই নিয়ম আর নেই।’